ভোক্তাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্লাস্টিক প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি পণ্যকে সুরক্ষিত, সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী রাখতে সহায়তা করে—যার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী সীমিত ক্রয়ক্ষমতার ভোক্তারা, যাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য পাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দায়িত্বহীনভাবে যেখানে-সেখানে ফেলে দিলে এই প্লাস্টিকই আমাদের শহর, জলাশয় ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের এই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন; একই সঙ্গে আমরা এই সমস্যার সমাধানে গঠনমূলক অবদান রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা সক্রিয়ভাবে আমাদের কার্যক্রমে প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করা, ম্যাটেরিয়াল সার্কুলেশন বৃদ্ধি করা এবং সামগ্রিক ভ্যালু চেইন উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। একটি টেকসই আগামীর প্রত্যয়ে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি এবং রি-ইঞ্জিনিয়ারিং উদ্যোগ পরীক্ষা করছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে অর্থবহ ও টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে পণ্যের বাইরেও আমাদের গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।
এই বিশ্বাস থেকেই আমরা বাংলাদেশের পোস্ট-কনজাম্পশন বা ব্যবহার-পরবর্তী প্লাস্টিক বর্জ্য ভ্যালু চেইন উন্নত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্লাস্টিক দূষণ কমাতে এবং বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে একটি সার্কুলার ভবিষ্যৎ গড়তে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) যৌথভাবে ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করছে।
একনজরে অর্জিত সাফল্য:
সংগ্রহ: জুন ২০২২ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৩২,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ফ্লেক্সিবল ও রিজিড—দুই ধরনের প্লাস্টিকই রয়েছে।
প্রশিক্ষণ: ৩,০০০-এর বেশি বর্জ্য সংগ্রহকারীকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সুরক্ষা ও জীবনমান: সংগ্রহকারীদের নিরাপত্তা সামগ্রী, আর্থিক সুবিধা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হয়েছে।
প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে এই অগ্রগতি উৎসাহব্যঞ্জক হলেও, দূষণের বিস্তৃতি ও ব্যাপকতার কারণে এর প্রতিরোধে আমাদের সবার ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু অবকাঠামো দিয়ে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকার, পৌর কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সহযোগী, কমিউনিটি ও ভোক্তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। প্লাস্টিককে পরিবেশের বাইরে রেখে রিসাইকেল অর্থনীতির সার্কুলার চক্রে ধরে রাখতে ব্যবহারকারী বা ভোক্তারা সবচেয়ে কার্যকর অংশীদার হতে পারেন।
এই বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করছে একটি বিশেষ সত্যকে সামনে রেখে—প্লাস্টিক বর্জ্যের গল্প শুধু ফেলে দেওয়াতেই শেষ হয় না। আমাদের ফেলে দেওয়া প্রতিটি বোতল বা প্যাকেটের পেছনে কাজ করে একটি বিশাল ভ্যালু চেইন। যেখানে হাজারো বর্জ্য সংগ্রহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পুনর্ব্যবহারকারী ও ভাঙারিওয়ালা এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে দিনরাত কাজ করছেন।
বাসাবাড়ির প্লাস্টিক যদি খাবারের বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যায়, তবে তা তার রিসাইকেল মূল্য হারায় এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য থাকে না। অথচ ঘরে বসেই আমাদের সাধারন ও সহজ কিছু অভ্যাস বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এসব অভ্যাস শুধু পরিবেশের জন্যই উপকারী নয়; প্রতিদিন যারা আমাদের ফেলে দেওয়া উপকরণ হাতে নিয়ে কাজ করেন, সেই হাজারো বর্জ্য সংগ্রহকারীর কাজ ও সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে আপনি সহায়তা করতে পারেন:
- প্লাস্টিকের প্যাকেট বা কনটেইনার ফেলার আগে পরিষ্কার করে নেওয়া।
- পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা রাখা।
- শপিং ব্যাগ ও অন্যান্য পাতলা প্লাস্টিক শুকনো রাখা।
- ধারালো প্লাস্টিক সামগ্রী সাবধানে ফেলা।
- সম্ভব হলে পরিষ্কার প্লাস্টিক সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহকারীদের হাতে দেওয়া।
আমাদের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই বর্জ্য সংগ্রহকারীদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ আরও কার্যকরভাবে সংগ্রহ করতে সাহায্য করে, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায় এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও রিসাইকেলের সম্ভাবনা বাড়ায়। এই বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি 'উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ' এবং ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক (যেমন: চিপসের প্যাকেট বা শপিং ব্যাগ) সংগ্রহের ওপর - যে উপকরণগুলো অনেক সময় আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, অথচ এগুলো পুনরুদ্ধার, পুনঃব্যবহার ও রিসাইকেল করা সবচেয়ে কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে, এগুলোই আমাদের শহরগুলোতে প্লাস্টিক দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ।
এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সহযোগিতা এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগের সাহায্যে সেই মানুষদের গল্পগুলো তুলে ধরছি, যারা পর্দার আড়ালে থেকে আমাদের শহর পরিষ্কার রাখছেন।
কমিউনিটি ও স্কুল পর্যায়েও এই উদ্যোগ সচেতনতা তৈরি অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ২৫,০০০-এর বেশি পরিবারের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্কুল পর্যায়ে তিন রঙের 'বিন' বা ঝুড়ি প্রদান করা হয়েছে, যাতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মাঝে বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
ইউনিলিভার বাংলাদেশে আমরা বিশ্বাস করি, অর্থবহ পরিবর্তন তখনই সম্ভব হয় যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি এবং ভোক্তারা একসঙ্গে কাজ করে। কারণ পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা শুধু বর্জ্যকে আরও ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করার বিষয় নয় - এটি বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া; ভ্যালু চেইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সহায়তা করা; সরকার, পৌর কর্তৃপক্ষ, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা; এবং সবশেষে, প্রতিদিন প্লাস্টিক ব্যবহারের পর সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়।
