Skip to content
এলফ্রিড সাম্বা, ক্রিয়েটর-নির্ভর মার্কেটিংয়ের অন্যতম অগ্রদূত, নিউ ইয়র্কের ইউনিলিভার হাউজ অব ফ্রেশ™ হাবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউনিলিভারের সঙ্গে এলফ্রিড সাম্বা

Published:

ইউনিলিভার-এর সবচেয়ে বড় স্পোর্টস পার্টনারশিপ, ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর ক্যামেরার পেছনে কী ঘটে তা দেখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ক্রিয়েটর এলফ্রিড সাম্বাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম আমরা।

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬™-এর অফিসিয়াল পার্সোনাল কেয়ার স্পনসর হিসেবে ইউনিলিভার এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় স্পোর্টস পার্টনারশিপ কীভাবে তৈরি করেছে, তা সরাসরি দেখতে আমি জুন মাসে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলাম। আমার কাছে স্পন্সর হিসেবে ইউনিলিভারের উপস্থিতির চেয়ে কীভাবে তারা পুরো সিস্টেমটাকে দাঁড় করিয়েছে সেটা বেশি আকর্ষণীয় লেগেছে।

বাইরে থেকে হয়তো শুধু খেলা, লোগো, কনটেন্ট ও ব্র্যান্ডের খানিক উপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু এই খানিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ক্যামেরার পেছনে হাজারটা কাজ একসঙ্গে করতে হয়। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া, ক্রিয়েটর, রিটেইলার, ফ্যানদের অভিজ্ঞতা, ম্যাচের দিনের বিভিন্ন মুহুর্ত – এতসব কিছু একই সময়ে একই ছন্দে চলে।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইউনিলিভারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি বৈশ্বিক বিষয়কে একজন ব্যক্তির সাথে রিলেট করানো। ব্র্যান্ডকে পোর্ট্রে করার জন্য বৈশ্বিক বিষয় অবশ্যেই বড় ক্যানভাস। কিন্ত সেটা যদি কোনো ব্যক্তি নিজের জীবনের সাথে রিলেট করাতে না পারেন, তবে সেই ক্যানভাসের দিকে কেউ ফিরেও তাকাবেন না।

ইউনিলিভার-এর হাউজ অব ফ্রেশ™ হাবের একটি বিশেষ আয়োজনে, এলফ্রিড সাম্বার নাম লেখা শার্টটি উঁচিয়ে দেখাচ্ছেন একজন ক্রিয়েটর।

আমি ইউনিলিভার-এর হাউজ অব ফ্রেশ™-এ গিয়েছিলাম। সেখানে শার্ট পার্সোনালাইজ করা, গোল করা, ম্যাচের দিনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার শেয়ার করার সময় খেলোয়াড়দের সাথে দেখা করার মতো দারুণ সব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এগুলো ক্রিয়েটরদের কাছে সত্যিই অনেক মূল্যবান। আর এই অভিজ্ঞতাগুলো সত্যিই শেয়ার করার মতো হওয়ায় ক্রিয়েটররা নির্ধারিত কনটেন্টের চেয়েও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি পোস্ট করেন। তখনই আমরা গ্রোথ সিস্টেমের আসল কার্যকারিতা দেখতে পাই।

এটা কোনো একক স্পন্সরশিপের গল্প না। বিভিন্ন মার্কেটের ক্রিয়েটরদের হাত ধরে এটা পরিণত হচ্ছে হাজার হাজার কনটেন্টে। এতে করে একই সঙ্গে ব্র্যান্ডের প্রাসঙ্গিকতা বাড়ছে, মানুষের আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত বিক্রিও বাড়ছে। আর ঠিক এই কারণেই বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্র্যান্ডগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ব্র্যান্ডগুলোও তখন গল্প হয়ে ওঠে।

এলফ্রিড সাম্বা, বাটারফ্লাই ইফেক্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও

নিউ ইয়র্কের হাউজ অব ফ্রেশ™-এর প্রতিটি কোণেই ক্রিয়েটরদের জন্য শেয়ার করার মতো অসংখ্য মুহূর্ত উপস্থিত ছিল। চার্ম স্টেশন ও এক্সেসরিজ বার ব্যবহার করে মানুষ ব্যক্তিগত কিছু তৈরি করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রোডাক্ট ওয়ালে ডাভ, রেক্সোনা এবং এক্সের মতো ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি ছিল। তবে সেগুলোকে জোর করে প্রচার করা হচ্ছে বলে মনে হয়নি। পানিনি স্টাইলের স্টিকার, কাস্টম শার্ট, এআই ফিট ক্রিয়েশন, সোয়েট ক্লাবসহ চারিদিকে কনটেন্ট তৈরির বিভিন্ন মজার মজার সুযোগ ছড়িয়ে ছিল।

সেরা অ্যাক্টিভেশনগুলো ক্রিয়েটরদের পোস্ট করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবার সুযোগ দেয় না। আসলে তারা সেগুলো পোস্ট না করে থাকতেই পারেন না। হাউজ অব ফ্রেশ শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় ক্রিয়েটর স্পেস না, এটা ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে বড় পরিসরে ব্র্যান্ডের ভ্যালু তৈরির একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ।

এলফ্রিড সাম্বা, বাটারফ্লাই ইফেক্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও

এখানেই বাণিজ্যিকভাবে সিস্টেমটি দুর্দান্তভাবে কাজ করতে শুরু করে এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে থাকে। সেরা অ্যাক্টিভেশনগুলো ক্রিয়েটরদের পোস্ট করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবার সুযোগ দেয় না। আসলে তারা সেগুলো পোস্ট না করে থাকতেই পারেন না।

হাউজ অব ফ্রেশ শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় ক্রিয়েটর স্পেস না, এটা ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে বড় পরিসরে ব্র্যান্ডের ভ্যালু তৈরির একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। কারণ ক্রিয়েটররা যখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রোডাক্ট নিয়ে ভিডিও করেন, প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলতে চান, সেগুলো ব্যবহার করে দেখান ও ভিডিওগুলো শেয়ার করেন, তখন আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় রিচ তো পাচ্ছেনই, পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে মানুষের আরো কাছে আসার, তাদের মধ্যে ব্র্যান্ড সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করার এবং নতুন গ্রাহক টানার বিশাল সুযোগ পাচ্ছেন। অভিজ্ঞতাগুলোই যখন আসল গল্পটা বলে, তখন আর ব্র্যান্ডগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ব্র্যান্ডগুলোও তখন গল্প হয়ে ওঠে।

ক্রিয়েটররা কেন ব্যবসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ

স্পনসরশিপের মাধ্যমে রিচ পাওয়া যায়। আর ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে ব্র্যান্ড মানুষের জীবনে হয়ে ওঠে প্রাসঙ্গিক। আর এই প্রাসঙ্গিকতার কারণেই মানুষ আগ্রহী হয়ে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে কনটেন্ট আরও ছড়িয়ে যায়।

ভিন্ন দেশ, ভিন্ন কমিউনিটি, ভিন্ন ভাষা যেন একই মুহূর্ত দেখার ভিন্ন ভিন্ন লেন্স। ক্রিয়েটররা শুধু কনটেন্ট ছড়িয়ে দেন না, তারা মেসেজও পৌঁছে দেন। কোন রসে-ঢঙে বিষয়গুলো দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করলে তা দর্শকদের মনে জায়গা করে নেবে তা তারা ভালো করেই জানেন। আর এই কারণেই একটি বৈশ্বিক ঘটনা বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

এটাই সম্প্রচার ও মানুষের নজর কাড়ার মধ্যে পার্থক্য। সম্প্রচার বলে, ‘আমাদের দিকে তাকান।’ ক্রিয়েটর-নির্ভর মার্কেটিং বলে, ‘এটা দেখলেই বুঝবেন, কেন এটা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ আর আপনি যদি তা ঠিকভাবে করতে পারেন, তখন এর প্রভাব শুধু এনগেজমেন্টে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে আকাঙ্ক্ষা ও আস্থা তৈরি হয়, বিক্রি ও প্রবৃদ্ধি বাড়ে ।

তাই, এটা শুধু স্পন্সরশিপ ছিল না। এটা ছিল সব ধরনের ক্রিয়েটরদের জন্য তৈরি করা একটা সিস্টেম। হাউজ অব ফ্রেশ ছিল এর চালিকাশক্তি। আর ক্রিয়েটররা তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন চালকের আসনে বসে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

  • ক্রিয়েটর মার্কেটিং কী?

    ক্রিয়েটর মার্কেটিং হলো একটি অংশীদারিত্ব-ভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে ব্র্যান্ডগুলি এমন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে কাজ করে, যারা ব্র্যান্ডের গল্প বলার ক্ষেত্রে দর্শকদের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আসেন। গতানুগতিক বিজ্ঞাপন বা স্পনসর করা পোস্টের মতো নয়, ক্রিয়েটর মার্কেটিং সহযোগিতামূলকভাবে কন্টেন্ট তৈরির ওপর জোর দেয়, যেখানে ক্রিয়েটররা নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনশীল অভিব্যক্তি বজায় রাখেন। Unilever-এর FIFA World Cup 2026™ কৌশলটি বিশ্বব্যাপী 50,000-এরও বেশি ক্রিয়েটরের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই মডেলের উদাহরণ তুলে ধরে। এখানে স্ক্রিপ্টে দেওয়া নির্দিষ্ট কথা বলার পরিবর্তে তাদের শেয়ার করার মতো অভিজ্ঞতা, যেমন House of Fresh™ ক্রিয়েটর হাব, ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

  • FIFA World Cup 2026™-এ Unilever-এর House of Fresh™ কী?

    House of Fresh™ (অথবা মেক্সিকোতে Casa Fresh) হলো Unilever Personal Care-এর তিনটি ক্রিয়েটর ব্র্যান্ড হাবের সমষ্টি। FIFA World Cup 2026™ চলাকালীন নিউ ইয়র্ক, মায়ামি এবং মেক্সিকো সিটিতে এগুলি খোলা থাকবে।

    House of Fresh™ ক্রিয়েটরদের অনুপ্রাণিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ উপাদান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শেয়ার করার মতো মুহূর্ত তৈরি হয় এবং কন্টেন্ট তৈরি করা প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। যখন ক্রিয়েটররা স্বাভাবিকভাবেই প্রোডাক্ট নিয়ে ভিডিও করতে, সেগুলি পরতে, শেয়ার করতে এবং সেগুলি নিয়ে আলোচনা করতে চান, তখন ব্র্যান্ডগুলি ফিডে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, বরং ফিডেরই অংশ হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতির ফলে হাজার-হাজার অর্গানিক কন্টেন্ট তৈরি হয়েছে।

  • স্পোর্টস স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্রিয়েটর মার্কেটিংয়ের ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা কী?

    স্পোর্টস স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্রিয়েটর মার্কেটিংয়ের ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা হলো ব্যাপক পরিসরে ব্রডকাস্ট রিচকে সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা এবং কনভার্শনে রূপান্তর করা। গতানুগতিক স্পোর্টস পার্টনারশিপগুলি টিভি, স্টেডিয়াম ব্র্যান্ডিং এবং অফিসিয়াল পার্টনারশিপের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করে। ক্রিয়েটর-নির্ভর মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও বিশ্বাসযোগ্যতা যোগ হয়, এর ফলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস, আগ্রহ এবং প্রবৃদ্ধি বাড়ে।

Back to top