Skip to content

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে অনুষ্ঠিত হোল ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫

Published:

Average read time: 3 minutes

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) ও কেওক্রাডং বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে “ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫” আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এবং স্থানীয় কমিউনিটি থেকে আসা ৫০০ ভলান্টিয়ার মিলে প্রায় ১,৮৫০ কেজি সমুদ্র-বর্জ্য সংগ্রহ করে, যার মধ্যে প্লাস্টিক বোতল, ব্যাগ ও ফেলে দেওয়া ফিশিং নেটও ছিল। একই সঙ্গে তারা রেস্পন্সিবল ট্যুরিজম এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ায়।

ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫-এ অংশগ্রহণকারী ভলান্টিয়ার

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) ও কেওক্রাডং বাংলাদেশ (কেবি)–এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫। দেশের অন্যতম পরিবেশ–সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চল সেন্ট মার্টিনে এটি আয়োজন করা হয়।

এই কার্যক্রমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় কমিউনিটি থেকে আসা ৫০০ জন এরও বেশি ভলান্টিয়ার সেন্ট মার্টিনের সৈকত থেকে ১,৮৫০ কেজি সমুদ্র-বর্জ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব বর্জ্য নিরাপদভাবে মেইনল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণ করা হয়। খাবারের মোড়ক, প্লাস্টিক বোতল ও ঢাকনা, প্লাস্টিক ব্যাগ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের মতো নানান ধরনের বর্জ্য এই অভিযানে সংগ্রহ করা হয়। এভাবেই অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ও পর্যটনের চাপে তৈরি হওয়া পরিবেশের উপর প্রভাব কমিয়ে পরিবেশকে সহায়তা করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।

এ বছর পর্যটন মৌসুমের প্রথম সপ্তাহেই সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কৌশলগতভাবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি আয়োজন করা হয় যাতে শুরু থেকেই পর্যটকদের সচেতন করা যেতে পারে। ভলান্টিয়াররা ভিজিটরদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেশন ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সঠিকভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা ও দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তন আনাও এ কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল। এই উদ্যোগ স্থানীয়দের পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ–সচেতনতা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওশান কনসারভেন্সির লোকাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কেওক্রাডং বাংলাদেশ গত ১৫ বছর ধরে সেন্ট মার্টিনের সৈকতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বৈশ্বিক মেরিন ডেব্রিস ডাটাবেসে মূল্যবান তথ্য যোগ করেছে। কক্সবাজার–টেকনাফ উপদ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপজুড়ে তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বাংলাদেশের সামুদ্রিক দূষণ সম্পর্কে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিলিভার বাংলাদেশ দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামে দেশের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি পরিচালনা করে, ভার্জিন প্লাস্টিক কমানো ও রিফিলসহ নানান উদ্ভাবনী সমাধান উন্নয়ন করছে এবং সারা দেশে কনজিউমার অ্যাওয়ারনেস বাড়াতেও নিয়মিত কাজ করছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স–এর পরিচালক শামিমা আক্তার বলেন, “নিরাপদ ও উচ্চমানের পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে প্লাস্টিক প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর পরিবেশগত প্রভাব কমাতে রেসপনসিবল ডিজাইন, ভার্জিন প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস এবং পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো অপরিহার্য। ইউনিলিভার বাংলাদেশে আমরা বিভিন্ন পার্টনারদের সাথে মিলে বাজারে যত প্লাস্টিক দিচ্ছি, তার চেয়ে বেশি প্লাস্টিক পরিবেশ থেকে অপসারণে কাজ করছি। একইসাথে এমন ব্যবস্থাও গড়ে তুলছি যা সঠিক উপায়ে সংগ্রহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে তোলে। সেন্ট মার্টিনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫–এ আমাদের অংশগ্রহণ এই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন; এখানে ফ্র্যাজাইল ইকোসিস্টেম রক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় যৌথ দায়িত্বকে শক্তিশালী করতে তরুণ-তরুণী ও স্থানীয়দের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।”

ওশান কনসারভেন্সির ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ–এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুনতাসির মামুন বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ, এবং এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসাধারণ সমুদ্রসৈকত রয়েছে যা আমাদের জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়। সেন্ট মার্টিন এই দেশের জাতীয় সম্পদগুলোর একটি। তবে ক্রমবর্ধমান সামাজিক–অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এই সুন্দর দ্বীপ ও উপকূলের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। আমরা বিশ্বাস করি, পরিবেশ সংরক্ষণে ইউনিলিভারের অগ্রণী ভূমিকা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আমাদের এই পার্টনারশীপ অন্যদেরও দেশের ভালোর জন্য এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।”

Back to top